।।মাছি।।
অনুবাদকঃ নির্বাণ রায়।
কচি বাচ্ছারা যেমন খাটের ধার দিয়ে উঁকি মারে ঠিক তেমনি করে সবুজ চামড়ার দামড়া হাতচেয়ারের কোল থেকে তার বন্ধু বসের ডেস্কের দিকে জুলজুল করে চেয়ে বুড়ো উডিফিল্ড বেশ গদগদ হয়ে বলল, “আহহ! বেশ আরামে আছ কিন্তু তুমি ভায়া!” কথাবার্তা ততক্ষণে সব শেষ; বুড়োর এবার বিদেয় হবার পালা। কিন্তু বুড়ো কি সহজে নড়তে চায়? সেই যবে থেকে রিটায়ার করেছে, বিশেষ করে ওই স্ট্রোকটা যবে থেকে হয়েছে বুড়োর বউ আর মেয়েরা তাকে ঘরে একরকম বাক্সবন্দী করেই রেখেছে। তারা স্রেফ মঙ্গলবারেই চুল ফুল আঁচড়ে, ভাল জামা ফামা পরে বুড়োকে পাড়া বেরোতে দেয়। বাকি দিন ওই ঘরেই বসিয়ে রাখে। তাও বেরতে দিয়ে স্বস্তি কি আর পায়? কে জানে বুড়োটা আবার কখন কি কান্ড বাঁধিয়ে বসে, বন্ধুবান্ধবদের কাছে বরাবরের মত হ্যালহ্যাল করতে গিয়ে প্রেস্টিজ না খুইয়ে বসে – এইসব চিন্তায় তাদের মন হাঁকপাঁক করে। কিন্তু কি আর করা যাবে? গাছ যেমন শীতের সময় নিজের শেষ পাতাটাকে সর্বশক্তি দিয়ে আঁকড়ে ধরে থাকতে চায়, আমরাও হয়তো তেমনি নিজদের শেষ শখ আহ্লাদগুলো মেটানোর জন্য বড্ড লোভী হয়ে পড়ি। এই যেমন বুড়ো উডিফিল্ড এখন তার বন্ধু বসের অফিসে বসে চুরুট ফুঁকতে ফুঁকতে লোভী কাকের মত তার দিয়ে তাকিয়ে আছে। আর বস? নিজের অফিস চেয়ারে আরাম করে গা এলিয়ে বসে, উডিফিল্ডের থেকে বয়সে বছর পাঁচেকের বড় হলেও দেখে বোঝার উপায় নেই মোটে; গোলাপের মত গায়ের রঙ, তাক লাগানো শরীরস্বাস্থ্য, দিনদিন যেন আরো তাগড়া চেহারা হচ্ছে বসের। আহা, মানুষটাকে দেখলেও মনে বল পাওয়া যায়।
বুড়ো উডিফিল্ড কান এঁটো করা গ্যালগ্যালে হাসি হেসে আবার বলল, “হেঁহেঁ, সত্যি মাইরি আরাম বটে!”
একটা কাগজ-কাটা ছুরি দিয়ে ফাইনান্সিয়াল টাইমসের পাতা ওল্টাতে ওল্টাতে বস অন্যমনস্কভাবে বললেন, “হুম, ওই আর কি!” নিজের অফিসরুমটা নিয়ে বসের মনে বেশ ভালরকমেরই অহংকার ছিল। কেউ প্রশংসা করলে বস মনে মনে বেশ খুশিই হতেন। উডিফিল্ডের মাফলার জড়ানো শীর্ণ শরীরটার সামনে সাজানো গোছানো তাক লাগানো অফিসটা যেন বসের মানসিক সন্তুষ্টিরই চুড়ান্ত প্রতিফলন।
“এই ক’দিন আগে আরো একটু সাজিয়ে গুছিয়ে নিলাম,“ বস বললেন। ঠিক এই কথাটাই উনি শেষ কয়েক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন লোককে বলে আসছেন। টকটকে লালের ওপর সাদা সাদা চাকতি আঁকা কার্পেটটার দিকে আঙুল দেখিয়ে বস বললেন, “নতুন কার্পেট”, কাঠের বিশাল বুককেস আর বেঁকানো পায়াওয়ালা টেবিলটার দিকে দেখিয়ে বললেন, “নতুন ফার্নিচার আর ওই যে নতুন ইলেকট্রিক রুম হিটার।“
শুধু টেবিলে রাখা ছবিটাকেই যেন এড়িয়ে গেলেন বস। ছবিটা একটা কমবয়সী ছেলের, ইউনিফর্ম পরে গম্ভীর মুখে দাঁড়িয়ে, ব্যাকগ্রাউন্ডের ফটোগ্রাফি স্টুডিয়োর সেই মার্কামারা মেঘলা আকাশ। ছবিটা কিন্তু নতুন নয়, বিগত ছ’বছর ধরে ঠিক ওখানেই দাঁড়িয়ে।
“কি যেন একটা তোমাকে বলতে গেলাম ভায়া,” চোখ কুঁচকে ছোট করে ভাবার চেষ্টা করলেন উডিফিল্ড, “ধুর শালা, কি বলব ভাবছিলাম ভুলে গেলাম। বেলায় যখন বেরোলাম মাথায় ছিল।“ মনে করার চেষ্টার চোটে তার হাত ফাত কাঁপতে লাগল, সাদা দাড়ির ওপরের চামড়ায় লালের ছোপ দেখা দিল।
বসের মায়া লাগল, “বুড়োটার অবস্থা একদম শেষ দিকে’” মনে মনে ভাবলেন বস। বুড়োর দিকে চেয়ে চোখ মেরে একটু মস্করার ঢঙে বস বললেন, “ওসব ছাড় তো, ঠান্ডায় বেরোনর আগে একটা জিনিস চেখে দেখ। পুরো মধু। একদম স্মুথ মাল। কচি খোকাও এক ঢোঁকে মেরে দেবে।“
ঘড়ির চেনে ঝোলান চাবিটা দিয়ে ডেস্কের নীচের দেরাজটা খুলে একটা কালোমত পেট্মোটা বোতল বার করতে করতে বস বললেন, “এইযো এইটে তোর ওষুধ। খোদ উইন্সডোর ক্যাসেলের সেলার থেকে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে জোগাড় করা।“
বোতলটা দেখে তো বুড়োর মুখ এক্কেবারে হাঁ। এর থেকে বস যদি জাদুকরের মত খরগোশ বার করতেন তাতেও উডিফিল্ড এত চমকাত না।
“হুইস্কি, তাই না?” ন্যাকার মত মিনমিন করে বলল বুড়ো উডিফিল্ড। বোতলটা তার দিকে ঘুরিয়ে লেবেলটা একবার দেখিয়ে দিলেন বস – হ্যাঁ, হুইস্কিই বটে।
প্রায় কাঁদোকাঁদো হয়ে বুড়ো বলল, “বাড়িতে তো এসবের ধারেকাছেও ঘেঁষতে দেয় না আমায়।“
টেবিলের একধারে জলের বোতলের সাথে দুটো গেলাস রাখা ছিল। ওই দুটোতে হুইস্কি ঢালতে ঢালতে বস বললেন, “এই কারণেই তো আমরা মেয়েদের থেকে বেশী জানি। ওরা বুঝবে এসব? নাও, ক্যোঁৎ করে গিলে ফেল দেখি। আরে না না, জল ফল দিও না। এসব জিনিসে জল-টল মেশালে ভয়ানক পাপ হয়!”
ঢক করে নিজেরটা গিলে নিয়ে, রুমালটা দিয়ে চট করে পুরুষ্টু গোঁফজোড়া মুছে নিয়ে উডিফিল্ডের দিকে চেয়ে আর একবার চোখ মারলেন বস।
হুইস্কিটা গিলে বুড়ো এক মুহূর্ত ঝিম মেরে থেকে বলে উঠল, “উফ, দারুণ!” গা হাত পা এতক্ষণে বেশ গরম হয়েছে, মদটা যেন ঠান্ডা ঝিমিয়ে পড়া বুড়ো মস্তিষ্ককে খুঁচিয়ে জাগিয়ে দিল আর সেই ভুলে যাওয়া কথাটা উডিফিল্ডের মনে পরে গেল।
চেয়ার থেকে উঠতে উঠতে বুড়ো বললেন, “হ্যাঁ, তা সেই কথাটা হল গিয়ে গত হপ্তায় আমার মেয়েগুলো বেলজিয়ামে গেছিল বেচারা রেজীর কবরে ফুল টুল দিতে। আর তোমার ছেলেরটাতেও সেই সুযোগে একবার ঢুঁ মেরে এল। কাছাকাছিই, দুজনের কবর বেশ কাছাকাছিই।“
উডিফিল্ড দম নিল। বস কোন উত্তর দিলেন না। বসের চোখের পাতাটা একবার কেঁপে উঠল কি?
- “মেয়েরা বলছিল যে জায়গাটা খুব সুন্দর করে রেখেছে। বেশ সাজান গোছান। এখানে থাকলে কি আর এত যত্নআত্তি পেত? তুমি একবারও যাওনি না?”
- “না, যাইনি।“ অনেক কারণ আছে বসের একবারও না যাওয়ার।
- “মাইলের পর মাইল,” বুড়ো উডিফিল্ড একঘেয়ে সুরে বলে চলল, “পুরো বাগানের মত সাজানো। সব কবরগুলোতে কি সুন্দর ফুল ফুটেছে। আর, আর কত চওড়া রাস্তা!“ উডিফিল্ডের গলা শুনে যে কেউ বলে দেবে যে ‘সুন্দর চওড়া রাস্তা’ তার কতটা পছন্দ।
একটু দম নিয়ে উডিফিল্ড আবার ঘ্যানঘ্যান করতে শুরু করল “জালিয়াতিটা তাহলে শোন ভায়া, ওখেনের হোটেলে এক শিশি জ্যামের দাম কত নিয়েছে জানো? দশ ফ্রা! অ্যাঁ! দিনে ডাকাতি একেই বলে বুঝলে ভায়া? পুঁচকে শিশি আর দাম শুনলে আঁতকে উঠতে হয়। আমার মেয়ে স্রেফ এক চামচ চেখেছিল, তাতেই এই! আমার মেয়েও কম যায়না। বুঝলে ভায়া, আমার মেয়ে গোটা শিশিটাই তুলে এনেছে স্রেফ ওই হতভাগাদের শিক্ষা দেবে বলে। এ আর কিছুই না, শুধু আমাদের আবেগ নিয়ে ব্যবসা করা। আর কিছুই না। স্রেফ আবেগ নিয়ে ছেলেখেলা করা......” উডিফিল্ড পায়ে পায়ে দরজার দিকে এগোল।
“হ্যাঁ হ্যাঁ, ঠিকাছে ঠিকাছে,” বলতে বলতে বস তাড়াহুড়ো করে নিজের ডেস্ক ছেড়ে বেরিয়ে এসে বুড়োকে দরজা অবধি এগিয়ে দিলেন। কিন্তু কি যে ঠিক আছে তা তিনি নিজেও বুঝতেও পারছিলেন না। বোঝার মত ক্ষমতায় ছিলেন না।
উডিফিল্ড বেরিয়ে যেতে অনেকক্ষণ ধরে স্থির হয়ে চোখে শূন্য দৃষ্টি নিয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন বস। অফিসের পাকাচুলো কেরানি ম্যাসেই বসের দিকে দেখতে দেখতে প্রভুভক্ত কুকুরের মত আদেশের আশায় ঘরেই এদিক ওদিক করতে লাগল।
বস বলল, “এখন কাউকে অফিসে আসতে দেবে না। আধ ঘণ্টা আমি একটু একা থাকতে চাই। বুঝলে?“
- “ঠিক আছে স্যার।“
দরজা বন্ধ হতেই ভারী পাগুলোকে লাল সাদা কার্পেটের ওপর দিয়ে কোনরকমে টেনে নিয়ে গিয়ে নিজের স্থুল দেহটাকে স্প্রিঙের চেয়ারের ওপর ছেড়ে টেবিলের ওপর ঝুঁকে পড়ে দুহাত দিয়ে মুখ ঢাকলেন তিনি। বস কাঁদতে চাইছিলেন। বসের কান্না পাচ্ছিল। কাঁদার জন্যই বস এত বন্দোবস্ত করলেন......
উডিফিল্ডের কাছে এতদিন বাদে হঠাৎ ছেলের কবরের কথা শুনে বসের মাথায় যেন আচমকা বাজ পড়ল। বস যেন দেখতে পেলেন ওনার ছেলের কবরের মাটি দু’ফাঁক হয়ে গেছে, ছেলে শুয়ে আছে আর উডিফিল্ডের মেয়েরা ওপর থেকে উঁকি মেরে দেখছে। ছ’বছর কেটে গেছে – ছ’বছর বাদেও ছেলের কবরের কথা ভাবলেই বস যেন দেখতে পান তার ছেলে শান্তভাবে ঘুমিয়ে আছে, ইউনিফর্ম পরে। একদম আগের মত, এক্টুও পরিবর্তন নেই।
“মাই সন,” বস গুঙিয়ে উঠলেন, কিন্তু চোখে জল এল না। আগে, মানে শুরুর দিকে, প্রথম মাসগুলোতে এমনকী ছেলে মারা যাওয়ার পরের কয়েক বছর ধরেও শুধু এই কথাটা উচ্চারণ করতেও তার বুক ফেটে যেত। পাগলের মত কেঁদে হয়তো একটু স্বস্তি পেতেন। তিনি তখন বলতেন যে সময় কিছুই পাল্টাতে পারে না। ওনার বক্তব্য ছিল যে অন্য কেউ হলে হয়তো সময়ের সাথে সাথে নিজেকে সামলে নেবে কিন্তু ওনার পক্ষে সম্ভব হবে না। কি করেই বা সম্ভব! ছেলেটা যে ছিল তার একমাত্র সন্তান। ছেলে জন্মানোর পর থকেই তিনি ব্যবসাটাকে দাঁড় করানোর জন্য খেটে গেছেন, শুধুমাত্র ছেলের মুখ চেয়ে; এছাড়া আর কোন উদ্দেশ্যই ছিল না। ওনার জীবনের ওই একটাই উদ্দেশ্য ছিল।
তিনি ছেলেটাকে নিজের জায়গায় দেখতে চেয়েছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন যেখান থেকে ব্যবসার দায়িত্ব তিনি ছেড়ে দেবেন ওনার ছেলে যেন ঠিক সেখান থেকে হাল ধরে নেয়। এটাই ছিল ওনার স্বপ্ন।
আর সেই স্বপ্ন প্রায় সত্যিও হতে চলেছিল। যুদ্ধের আগে বছরখানেক ধরে ছেলে নিয়মিত অফিসে আসছিল। কাজও দারুণ শিখছিল। প্রতিদিন সকালে একই সাথে দুজনে ট্রেনে করে আসতেন, আবার ফিরেও যেতেন একই সাথে। লোকজন কি তারিফই না করত! স্টাফেরাও সবাই ভালবাসত, এত সুন্দর স্বভাবের ছেলে যে সবাই প্রশংসায় পঞ্চমুখ। সবার সাথেই খুব ভাল ব্যবহার করত আর বাচ্ছা বাচ্ছা উজ্জ্বল মুখটায় সবসময় একটা কথা লেগেই থাকত, “ওহ! দুর্দান্ত!”
কিন্তু সব শেষ হয়ে গেল, এমনভাবেই শেষ হয়ে গেল যেন সত্যি কোনদিন কিছু ছিলই না। যেদিন ম্যাসেই ওনার হাতে টেলিগ্রামটা তুলে দিয়েছিল সেদিন যেন একটা এরোপ্লেন বসের মাথায় ভেঙে পড়েছিল, “আপনাকে অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানানো হচ্ছে যে......” জীবনটা সেদিনই ছারখার হয়ে গিয়েছিল বসের।
ছ’বছর আগে...... ছ’বছর! কত তাড়াতাড়ি যে সময় যায়! ভাবলে মনে হয় যেন এই তো গতকালের ঘটনা। বস মুখ থেকে হাত সরালেন। মাথা কাজ করছিল না। ওনার মনের ভেতরে কিছু একটা যেন ঠিক নেই। ঠিক যেমনটা অনুভব করার কথা তেমনটা যেন তিনি অনুভব করতে পারছেন না। বস একবার ছেলের ছবিটা দেখবেন বলে ডেস্ক ছেড়ে উঠলেন। ছবিটা তার মোটেও পছন্দের না, এরম ঠান্ডা কঠোর দৃষ্টি তার ছেলের কখনই হতে পারে না। সে এরম ছিলই না।
বুড়ো উডিফিল্ড কান এঁটো করা গ্যালগ্যালে হাসি হেসে আবার বলল, “হেঁহেঁ, সত্যি মাইরি আরাম বটে!”
একটা কাগজ-কাটা ছুরি দিয়ে ফাইনান্সিয়াল টাইমসের পাতা ওল্টাতে ওল্টাতে বস অন্যমনস্কভাবে বললেন, “হুম, ওই আর কি!” নিজের অফিসরুমটা নিয়ে বসের মনে বেশ ভালরকমেরই অহংকার ছিল। কেউ প্রশংসা করলে বস মনে মনে বেশ খুশিই হতেন। উডিফিল্ডের মাফলার জড়ানো শীর্ণ শরীরটার সামনে সাজানো গোছানো তাক লাগানো অফিসটা যেন বসের মানসিক সন্তুষ্টিরই চুড়ান্ত প্রতিফলন।
“এই ক’দিন আগে আরো একটু সাজিয়ে গুছিয়ে নিলাম,“ বস বললেন। ঠিক এই কথাটাই উনি শেষ কয়েক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন লোককে বলে আসছেন। টকটকে লালের ওপর সাদা সাদা চাকতি আঁকা কার্পেটটার দিকে আঙুল দেখিয়ে বস বললেন, “নতুন কার্পেট”, কাঠের বিশাল বুককেস আর বেঁকানো পায়াওয়ালা টেবিলটার দিকে দেখিয়ে বললেন, “নতুন ফার্নিচার আর ওই যে নতুন ইলেকট্রিক রুম হিটার।“
শুধু টেবিলে রাখা ছবিটাকেই যেন এড়িয়ে গেলেন বস। ছবিটা একটা কমবয়সী ছেলের, ইউনিফর্ম পরে গম্ভীর মুখে দাঁড়িয়ে, ব্যাকগ্রাউন্ডের ফটোগ্রাফি স্টুডিয়োর সেই মার্কামারা মেঘলা আকাশ। ছবিটা কিন্তু নতুন নয়, বিগত ছ’বছর ধরে ঠিক ওখানেই দাঁড়িয়ে।
“কি যেন একটা তোমাকে বলতে গেলাম ভায়া,” চোখ কুঁচকে ছোট করে ভাবার চেষ্টা করলেন উডিফিল্ড, “ধুর শালা, কি বলব ভাবছিলাম ভুলে গেলাম। বেলায় যখন বেরোলাম মাথায় ছিল।“ মনে করার চেষ্টার চোটে তার হাত ফাত কাঁপতে লাগল, সাদা দাড়ির ওপরের চামড়ায় লালের ছোপ দেখা দিল।
বসের মায়া লাগল, “বুড়োটার অবস্থা একদম শেষ দিকে’” মনে মনে ভাবলেন বস। বুড়োর দিকে চেয়ে চোখ মেরে একটু মস্করার ঢঙে বস বললেন, “ওসব ছাড় তো, ঠান্ডায় বেরোনর আগে একটা জিনিস চেখে দেখ। পুরো মধু। একদম স্মুথ মাল। কচি খোকাও এক ঢোঁকে মেরে দেবে।“
ঘড়ির চেনে ঝোলান চাবিটা দিয়ে ডেস্কের নীচের দেরাজটা খুলে একটা কালোমত পেট্মোটা বোতল বার করতে করতে বস বললেন, “এইযো এইটে তোর ওষুধ। খোদ উইন্সডোর ক্যাসেলের সেলার থেকে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে জোগাড় করা।“
বোতলটা দেখে তো বুড়োর মুখ এক্কেবারে হাঁ। এর থেকে বস যদি জাদুকরের মত খরগোশ বার করতেন তাতেও উডিফিল্ড এত চমকাত না।
“হুইস্কি, তাই না?” ন্যাকার মত মিনমিন করে বলল বুড়ো উডিফিল্ড। বোতলটা তার দিকে ঘুরিয়ে লেবেলটা একবার দেখিয়ে দিলেন বস – হ্যাঁ, হুইস্কিই বটে।
প্রায় কাঁদোকাঁদো হয়ে বুড়ো বলল, “বাড়িতে তো এসবের ধারেকাছেও ঘেঁষতে দেয় না আমায়।“
টেবিলের একধারে জলের বোতলের সাথে দুটো গেলাস রাখা ছিল। ওই দুটোতে হুইস্কি ঢালতে ঢালতে বস বললেন, “এই কারণেই তো আমরা মেয়েদের থেকে বেশী জানি। ওরা বুঝবে এসব? নাও, ক্যোঁৎ করে গিলে ফেল দেখি। আরে না না, জল ফল দিও না। এসব জিনিসে জল-টল মেশালে ভয়ানক পাপ হয়!”
ঢক করে নিজেরটা গিলে নিয়ে, রুমালটা দিয়ে চট করে পুরুষ্টু গোঁফজোড়া মুছে নিয়ে উডিফিল্ডের দিকে চেয়ে আর একবার চোখ মারলেন বস।
হুইস্কিটা গিলে বুড়ো এক মুহূর্ত ঝিম মেরে থেকে বলে উঠল, “উফ, দারুণ!” গা হাত পা এতক্ষণে বেশ গরম হয়েছে, মদটা যেন ঠান্ডা ঝিমিয়ে পড়া বুড়ো মস্তিষ্ককে খুঁচিয়ে জাগিয়ে দিল আর সেই ভুলে যাওয়া কথাটা উডিফিল্ডের মনে পরে গেল।
চেয়ার থেকে উঠতে উঠতে বুড়ো বললেন, “হ্যাঁ, তা সেই কথাটা হল গিয়ে গত হপ্তায় আমার মেয়েগুলো বেলজিয়ামে গেছিল বেচারা রেজীর কবরে ফুল টুল দিতে। আর তোমার ছেলেরটাতেও সেই সুযোগে একবার ঢুঁ মেরে এল। কাছাকাছিই, দুজনের কবর বেশ কাছাকাছিই।“
উডিফিল্ড দম নিল। বস কোন উত্তর দিলেন না। বসের চোখের পাতাটা একবার কেঁপে উঠল কি?
- “মেয়েরা বলছিল যে জায়গাটা খুব সুন্দর করে রেখেছে। বেশ সাজান গোছান। এখানে থাকলে কি আর এত যত্নআত্তি পেত? তুমি একবারও যাওনি না?”
- “না, যাইনি।“ অনেক কারণ আছে বসের একবারও না যাওয়ার।
- “মাইলের পর মাইল,” বুড়ো উডিফিল্ড একঘেয়ে সুরে বলে চলল, “পুরো বাগানের মত সাজানো। সব কবরগুলোতে কি সুন্দর ফুল ফুটেছে। আর, আর কত চওড়া রাস্তা!“ উডিফিল্ডের গলা শুনে যে কেউ বলে দেবে যে ‘সুন্দর চওড়া রাস্তা’ তার কতটা পছন্দ।
একটু দম নিয়ে উডিফিল্ড আবার ঘ্যানঘ্যান করতে শুরু করল “জালিয়াতিটা তাহলে শোন ভায়া, ওখেনের হোটেলে এক শিশি জ্যামের দাম কত নিয়েছে জানো? দশ ফ্রা! অ্যাঁ! দিনে ডাকাতি একেই বলে বুঝলে ভায়া? পুঁচকে শিশি আর দাম শুনলে আঁতকে উঠতে হয়। আমার মেয়ে স্রেফ এক চামচ চেখেছিল, তাতেই এই! আমার মেয়েও কম যায়না। বুঝলে ভায়া, আমার মেয়ে গোটা শিশিটাই তুলে এনেছে স্রেফ ওই হতভাগাদের শিক্ষা দেবে বলে। এ আর কিছুই না, শুধু আমাদের আবেগ নিয়ে ব্যবসা করা। আর কিছুই না। স্রেফ আবেগ নিয়ে ছেলেখেলা করা......” উডিফিল্ড পায়ে পায়ে দরজার দিকে এগোল।
“হ্যাঁ হ্যাঁ, ঠিকাছে ঠিকাছে,” বলতে বলতে বস তাড়াহুড়ো করে নিজের ডেস্ক ছেড়ে বেরিয়ে এসে বুড়োকে দরজা অবধি এগিয়ে দিলেন। কিন্তু কি যে ঠিক আছে তা তিনি নিজেও বুঝতেও পারছিলেন না। বোঝার মত ক্ষমতায় ছিলেন না।
উডিফিল্ড বেরিয়ে যেতে অনেকক্ষণ ধরে স্থির হয়ে চোখে শূন্য দৃষ্টি নিয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন বস। অফিসের পাকাচুলো কেরানি ম্যাসেই বসের দিকে দেখতে দেখতে প্রভুভক্ত কুকুরের মত আদেশের আশায় ঘরেই এদিক ওদিক করতে লাগল।
বস বলল, “এখন কাউকে অফিসে আসতে দেবে না। আধ ঘণ্টা আমি একটু একা থাকতে চাই। বুঝলে?“
- “ঠিক আছে স্যার।“
দরজা বন্ধ হতেই ভারী পাগুলোকে লাল সাদা কার্পেটের ওপর দিয়ে কোনরকমে টেনে নিয়ে গিয়ে নিজের স্থুল দেহটাকে স্প্রিঙের চেয়ারের ওপর ছেড়ে টেবিলের ওপর ঝুঁকে পড়ে দুহাত দিয়ে মুখ ঢাকলেন তিনি। বস কাঁদতে চাইছিলেন। বসের কান্না পাচ্ছিল। কাঁদার জন্যই বস এত বন্দোবস্ত করলেন......
উডিফিল্ডের কাছে এতদিন বাদে হঠাৎ ছেলের কবরের কথা শুনে বসের মাথায় যেন আচমকা বাজ পড়ল। বস যেন দেখতে পেলেন ওনার ছেলের কবরের মাটি দু’ফাঁক হয়ে গেছে, ছেলে শুয়ে আছে আর উডিফিল্ডের মেয়েরা ওপর থেকে উঁকি মেরে দেখছে। ছ’বছর কেটে গেছে – ছ’বছর বাদেও ছেলের কবরের কথা ভাবলেই বস যেন দেখতে পান তার ছেলে শান্তভাবে ঘুমিয়ে আছে, ইউনিফর্ম পরে। একদম আগের মত, এক্টুও পরিবর্তন নেই।
“মাই সন,” বস গুঙিয়ে উঠলেন, কিন্তু চোখে জল এল না। আগে, মানে শুরুর দিকে, প্রথম মাসগুলোতে এমনকী ছেলে মারা যাওয়ার পরের কয়েক বছর ধরেও শুধু এই কথাটা উচ্চারণ করতেও তার বুক ফেটে যেত। পাগলের মত কেঁদে হয়তো একটু স্বস্তি পেতেন। তিনি তখন বলতেন যে সময় কিছুই পাল্টাতে পারে না। ওনার বক্তব্য ছিল যে অন্য কেউ হলে হয়তো সময়ের সাথে সাথে নিজেকে সামলে নেবে কিন্তু ওনার পক্ষে সম্ভব হবে না। কি করেই বা সম্ভব! ছেলেটা যে ছিল তার একমাত্র সন্তান। ছেলে জন্মানোর পর থকেই তিনি ব্যবসাটাকে দাঁড় করানোর জন্য খেটে গেছেন, শুধুমাত্র ছেলের মুখ চেয়ে; এছাড়া আর কোন উদ্দেশ্যই ছিল না। ওনার জীবনের ওই একটাই উদ্দেশ্য ছিল।
তিনি ছেলেটাকে নিজের জায়গায় দেখতে চেয়েছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন যেখান থেকে ব্যবসার দায়িত্ব তিনি ছেড়ে দেবেন ওনার ছেলে যেন ঠিক সেখান থেকে হাল ধরে নেয়। এটাই ছিল ওনার স্বপ্ন।
আর সেই স্বপ্ন প্রায় সত্যিও হতে চলেছিল। যুদ্ধের আগে বছরখানেক ধরে ছেলে নিয়মিত অফিসে আসছিল। কাজও দারুণ শিখছিল। প্রতিদিন সকালে একই সাথে দুজনে ট্রেনে করে আসতেন, আবার ফিরেও যেতেন একই সাথে। লোকজন কি তারিফই না করত! স্টাফেরাও সবাই ভালবাসত, এত সুন্দর স্বভাবের ছেলে যে সবাই প্রশংসায় পঞ্চমুখ। সবার সাথেই খুব ভাল ব্যবহার করত আর বাচ্ছা বাচ্ছা উজ্জ্বল মুখটায় সবসময় একটা কথা লেগেই থাকত, “ওহ! দুর্দান্ত!”
কিন্তু সব শেষ হয়ে গেল, এমনভাবেই শেষ হয়ে গেল যেন সত্যি কোনদিন কিছু ছিলই না। যেদিন ম্যাসেই ওনার হাতে টেলিগ্রামটা তুলে দিয়েছিল সেদিন যেন একটা এরোপ্লেন বসের মাথায় ভেঙে পড়েছিল, “আপনাকে অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানানো হচ্ছে যে......” জীবনটা সেদিনই ছারখার হয়ে গিয়েছিল বসের।
ছ’বছর আগে...... ছ’বছর! কত তাড়াতাড়ি যে সময় যায়! ভাবলে মনে হয় যেন এই তো গতকালের ঘটনা। বস মুখ থেকে হাত সরালেন। মাথা কাজ করছিল না। ওনার মনের ভেতরে কিছু একটা যেন ঠিক নেই। ঠিক যেমনটা অনুভব করার কথা তেমনটা যেন তিনি অনুভব করতে পারছেন না। বস একবার ছেলের ছবিটা দেখবেন বলে ডেস্ক ছেড়ে উঠলেন। ছবিটা তার মোটেও পছন্দের না, এরম ঠান্ডা কঠোর দৃষ্টি তার ছেলের কখনই হতে পারে না। সে এরম ছিলই না।
হঠাৎ বসের চোখে পড়ল টেবিলের বড় মুখওয়ালা কালির পাত্রের মধ্যে একটা মাছি পড়ে খুব দুর্বল কিন্তু মরিয়াভাবে হাত পা ছুঁড়ছে। দোয়াতের গা বেয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। কিন্তু হলে কি হবে? দোয়াতের গা এতটাই পিচ্ছিল যে মাছিটা বারবার হড়কে কালিতে পড়ে যাচ্ছে আর হাবুডূবু খাচ্ছে। বস একটা পেন নিয়ে মাছিটাকে কালি থেকে তুলে একটা ব্লটিং কাগজের ওপর ঝেড়ে ফেললেন। কয়েকমূহুর্তের জন্য মাছিটা স্থির হয়ে কাগজের কালো ছোপটার ওপর শুয়ে রইল। ব্লটিং পেপার আসতে আসতে কালি শুষে নিতে থাকল আর মাছিটাও ধীরে ধীরে সামনের পায়ের ওপর ভর দিয়ে ক্লান্ত শরীরটাকে তুলে ধরল। তারপর শুরু হল ডানা থেকে কালি পরিস্কার করার ক্লান্তিকর কাজ। পাথরের ওপর কাস্তে শান দেওয়ার মত করে সামনের পাগুলোকে ডানার ওপর নিচ, ওপর নিচ করে চালাতে লাগল। তারপর অনেক চেষ্টা করে মাছিটা একটা ডানা মেলল, তারপর আরেকটা। তারপর সোজা হয়ে বসে ঠিক বেড়ালের মত সামনের পাদুটোকে দিয়ে মুখ পরিস্কার করে বেশ খুশি হয়েই সামনের দুটো পা মুখের সামনে ঘষতে লাগল। উফফ! একটা সাংঘাতিক বিপদের হাত থেকে বাঁচা গেল বটে। বিপদ থেকে পালিয়ে আবার সে জীবনের জন্য প্রস্তুত।
ঠিক তক্ষুনি বসের মাথায় একতা আইডিয়া এল। পেনটা আবার কালিতে ডোবালেন। ব্লটিং কাগজের ওপর কব্জির ভর দিয়ে অপেক্ষা করে রইলেন। ঠিক মাছিরটা যখন উড়তে যাবে ওপর থেকে একটা ভারী কালির ফোঁটা ওই ছোট্ট শরীরটার ওপর নেমে এল। দেখি এবার কি করে মাছিটা। এবার? মাছিটা ভয়ে বিস্ময়ে এতটাই বিহ্বল হয়ে গিয়েছিল যে কিছুক্ষণ নড়তেই পারল না। তারপর, খুব কষ্ট করে শরীরটাকে সামনের দিকে হিঁচড়ে নিয়ে চলল। সামনের পাগুলো আবার নড়তে শুরু করল, আবার পরিস্কার হওয়ার পালা। আগের থেকে অনেক আস্তে হলেও মাছিটা কিন্তু থামল না, আবার প্রথম থেকে শুরু করল।
বাহ! মালটার দম আছে তো বেশ, মনে মনে ভাবলেন বস। বসের মনে মাছিটার জন্য বেশ সম্ভ্রম জাগল। এই তো, এইভাবেই যেকোন পরিস্থিতিকে সামলাতে হয়। হাল ছাড়ে কাপুরুষে, হাল ছাড়তে নেই কখনো কিন্তু...... মাছিটা আবার কষ্টকর কাজটা শেষ করে ফেলেছে। বসও পেনে কালি ভরতে দেরি করলেন না, অতিকষ্টে পরিস্কার করা শরীরটার ওপর আরেকটা কালো ফোঁটা এসে পড়ল। এবার? এবার? বেশ কিছুক্ষণের রুদ্ধশ্বাস প্রতীক্ষা। আবার সামনের পাগুলো ধীরে ধীরে নড়তে শুরু করল, - স্বস্তির শ্বাস ফেলে মাছিটার ওপর ঝুঁকে পড়ে বস বললেন, “জিও শালা হা......” আরো একটা চরম আইডিয়া তার মাথায় এল। মাছিটার ওপর তিনি হালকা হালকা নিশ্বাস ফেলতে লাগলেন যাতে কালিটা আর তাড়াতাড়ি শুকোয়, কিন্তু মাছিটার নড়াচড়া বড্ড স্লথ হয়ে এসেছিল। বস স্থির করলেন যে এটাই শেষবার। পেনটাকে দোয়াতে অনেকটা ডোবালেন।
হ্যাঁ, মাছিটার অবস্থা সত্যিই শেষ হয়ে এসেছিল। শেষ ফোঁটাটা নেমে আসতে মাছিটা আর নড়ল না। পেছনের পাগুলো ছোট্ট শরীরটার সাথে একদম আটকে গেছে, আর সামনের পাগুলো খুঁজেই পাওয়া যাচ্ছে না।
“এই চল” বস উত্তেজিতভাবে বললেন, “ওঠ। ওঠ। পারবি তুই।“ পেনটা দিয়ে মাছিতাকে কয়েকবার নাড়ালেন বস। কিছুই হল না। কিছু হওয়ার সম্ভাবনাও ছিল না। মাছিটা ততক্ষণে মরে গিয়েছিল।
কাগজ-কাটা ছুরিটার ডগা দিয়ে মাছির লাশটা তুলে নিয়ে ওয়েস্ট পেপার বাস্কেটে ছুঁড়ে দিলেন বস। হঠাৎ একটা চাপা আতঙ্কে বসের দম বন্ধ হয়ে এল, মনে হল যেন তিনি কোথাও একটা তলিয়ে যাচ্ছেন। তাড়াতাড়ি করে টেবিলের ঘন্টাটা বাজিয়ে তিনি ম্যাসেইকে ডাকলেন।
ম্যাসেই আসতে বস গম্ভীরভাবে বললেন, “ক’টা ফ্রেশ ব্লটিং পেপার এনে দাও তো। আর তাড়াতাড়ি।“ বুড়ো কুকুরটা নিঃশব্দে বেরিয়ে যেতে সোজা হয়ে বসলেন বস। কি যেন ভাবছিলেন তিনি? আরে একটু আগেই কি যেন একটা ভাবছিলেন! কি বেশ? রুমালটা দিয়ে ঘাড়ে জমা ঘাম মুছলেন বস। প্রচন্ড চেষ্টা করেও তিনি কিছুতেই মনে করতে পারলেন না। [Follow Nirban on Facebook]
____________________
এই গল্পটায় যদি তথাকথিত টানটান কোন ক্লাইম্যাক্স আশা করেন তাহলে ভুল করবেন। 'তারপর সে গাঁক করে পেটে ছুরি ঢুকিয়ে দিল', 'ভূতে এসে ঘাড় মটকে দিল', 'মেয়েটার শোকে ছেলেটা আত্মহত্যা করল' ইত্যাদি কোন ড্রামাটিক এন্ডিং না থাকলে অনেকে মনে করেন এ আবার কি লেখা! যদি সেরম মনে হয় ফিল ফ্রী টু আস্ক। পুরোটা এক্সপ্লেইন করেও একটা আলোচনা পোস্ট করতে পারি তাদের সুবিধার্থে।

No comments:
Post a Comment