কালপুরুষ ২
- নির্বাণ রায়, ছবি: ওঙ্কার নাথ। Read Kalpurush 1 Here.
মাথাটা দু'হাত দিয়ে চেপে ধরে কিছুক্ষণের জন্য বসে রইল প্রদোষ। ঘরটা মনে হচ্ছে যেন দুলছে। ফার্নিচারগুলো থরথরিয়ে কাঁপছে। কখনও মনে হচ্ছে যেন একটা জায়ান্ট বলের মধ্যে সে বসে আছে। আর বলটা মাঝেমধ্যেই প্রচন্ড গতিতে গড়াচ্ছে। পুরো জগতটা তালগোল পাকিয়ে ঘেঁটে যাচ্ছে।
আর কি বীভৎস চিৎকার! উফফফফ! দু'হাত দিয়ে সজোরে কান চেপে ধরলো প্রদোষ - অনেকগুলো গলা - ডাকছে, কোনোটা বাঁশির মত সুরেলা অথচ তীক্ষ্ণ হয়ে বাজছে, কোনোটা অদ্ভুত বীভৎসভাবে হাসছে, প্রচন্ড যন্ত্রণায় কেউ কাঁদছে.... আর থেকে থেকে.... থেকে থেকে কে যেন তার নাম ধরে ডাকছে।
সমস্যাটা হল আওয়াজগুলো কোত্থেকে আসছে অনেক চেষ্টা করেও সে ঠাওর করতে পারছে না। টলতে টলতে উঠে দাঁড়ালো প্রদোষ - সিলিংটা মনে হচ্ছে মাথার কাছে নেমে এসেছে। দক্ষিণের জানলাটা বহু দূরে ছোট্ট হয়ে দেখা যাচ্ছে। আর মেঝেটা তো সবসময় কেঁপেই চলেছে। গোটা ঘরটা দুলছে।
প্রদোষের আবছা আবছা মনে পড়ছে সাদা পোশাক পরা একটা লোক - মগনলালের খাস বেয়ারা একটা ট্রেতে করে তিনটে কাচের গ্লাস এনে রাখল। বাদামের সরবত।
চুমুক দিল প্রদোষ। আহা! বুকটা যেন জুড়িয়ে গেল। বিষের ভয় সে করে না। এই মগনলাল সাক্ষাৎ শয়তানের শাগরেদ হতে পারে, কিন্তু বিষ.... উঁহুঁ।
- "আরে আঙ্কেলজী, খেয়ে নিন, খেয়ে নিন.... কেতোবার বলবো যে উ সরবতে ভিষ নাই... একটু তো বিসোয়াস করেন এবার হামাকে..... জহের খাওয়ানোর হলে তো কাশীতেই খাওয়াতে পারতাম..."
- "ইয়ে আজকে একটু গ্যাস অম্বল মত হয়েচে বুঝলেন? আজ আর ও জিনিস সহ্য হবে না।"
- "ইয়ে আজকে একটু গ্যাস অম্বল মত হয়েচে বুঝলেন? আজ আর ও জিনিস সহ্য হবে না।"
তারপর.... তারপর লালমোহনবাবুকে নিয়ে কিছু একটা মন্তব্য করলো প্রদোষ.... হ্যাঁ হ্যাঁ.... কি যেন বেশ? মনে পড়ছে না উফফফ!
তোপসে হেসে উঠলো.... মগনলাল হেসে উঠলো......
তোপসে হেসে উঠলো.... মগনলাল হেসে উঠলো......
তোপসে? তোপসে! তোপসে কই? তোপসে!
কি ছিলো ওই সরবতে? কি খাওয়ালো মগনলাল?
উফফফফ! কি চিৎকার! মাথা যেন ছিঁড়ে পড়ছে... টিউবলাইটটা দপদপ করছে..... একবার জ্বলছে একবার নিভছে। আলো-আঁধারির এক অদ্ভুত খেলা। মাঝে মাঝে অন্ধকারে যেন টিউবলাইটটা বিদ্যুতের মত চমকাচ্ছে। কিন্তু স্থির হতে পারছে না।
স্থির হয়ে দাঁড়াতে পারছে না প্রদোষও। দেওয়াল ধরে ধরে এগোনোর চেষ্টা করলো। পায়ে কি যেন ঠেকলো! নিচের দিকে তাকিয়ে চমকে উঠলো প্রদোষ!
উপুড় হয়ে পড়ে আছে দেহটা! মুন্ডহীন!
সমস্ত দেহ ঘামে ভিজে গেছে প্রদোষের। নিজেকে এতদিন সাহসীই ভেবে এসছে সে। মেঝেটা ভেসে যাচ্ছে রক্তে। টিউবলাইটের দপদপানিতে একবার কালো, আবার লাল, আবার কালো, তারপর লাল.....
সমস্ত দেহ ঘামে ভিজে গেছে প্রদোষের। নিজেকে এতদিন সাহসীই ভেবে এসছে সে। মেঝেটা ভেসে যাচ্ছে রক্তে। টিউবলাইটের দপদপানিতে একবার কালো, আবার লাল, আবার কালো, তারপর লাল.....
একটু দূরে টিভির ওপর বসানো একটা গোলমত জিনিস। ওটা কি.... ওটা কি....!! কি নোংরা খেলা খেলছে এই মগনলাল!
উফ!.... সরবতটা! এরম জাজমেন্টের ভুল তার হলো!
উফ!.... সরবতটা! এরম জাজমেন্টের ভুল তার হলো!
পায়ে পায়ে টলতে টলতে এগিয়ে গেলো প্রদোষ। হ্যাঁ, কোনো সন্দেহ নেই। জিনিসটা একটা মাথা! একটা মানুষের মাথা! কিন্তু কার? একটা অজানা আতঙ্কে বুক কেঁপে উঠলো প্রদোষের।
টিউবলাইটের দপদপানিতে মুখটা বোঝা যাচ্ছে না ভালো করে দূর থেকে। ফুটখানেকের মধ্যে আসতেই ম্যাজিকের মত টিউবলাইটটা দপ করে জ্বলে উঠলো। কয়েক মূহুর্তের জন্য চোখে ধাঁধা লেগে গেলেও মুখটা ধীরে ধীরে স্পষ্ট হলো। ধারালো কিছু দিয়ে জঘন্যভাবে বিকৃত করা হলেও বোঝা যাচ্ছে মাথাটা কার। স্থির দুটো চোখ তাকিয়ে রয়েছে প্রদোষের দিকে।
টিভির স্ক্রিনটা ভাঙা। মাটিতে পড়ে রয়েছে ছুরির মত লম্বা লম্বা কাচের টুকরো - রক্তমাখা।
হে ভগবান! মগনলাল এতটা নৃশংস! বন্ধুত্বের হাত বাড়ানো, নিজের গেস্ট হাউসে ছুটি কাটাতে ডাকা - এই সবই কি তাহলে একটা নিষ্ঠুর খেলা!
হে ভগবান! মগনলাল এতটা নৃশংস! বন্ধুত্বের হাত বাড়ানো, নিজের গেস্ট হাউসে ছুটি কাটাতে ডাকা - এই সবই কি তাহলে একটা নিষ্ঠুর খেলা!
পেছনে পায়ের আওয়াজ পেয়ে চমকে ঘুরে দাঁড়ালো প্রদোষ। দরজা খুলে ঘরের মধ্যে এসে দাঁড়িয়েছে জনা পাঁচেক লোক। সাদা পোশাক পরা তিনজন - এরা তো.... এরা তো মগনলালের বেয়ারা! সাথে সাহেবি পোশাক পরে আরো দু'জন। সামনের জন বেঁটেখাটো টাকমাথা। গম্ভীর মুখ, প্যান্টের পকেটে দুটো হাত।
- 'লালমোহনবাবু.... লালমোহনবাবু.... ক্-কারা যেন.... ক্-কারা যেন তোপসেকে.... ওই মগনলাল.. মগন...." বলতে গিয়ে গলা বুজে এলো প্রদোষের।
মাথা কাজ করছে না তার। বুকের ভেতর থেকে দলা পাকিয়ে উঠে আসছে কান্না। ঠান্ডা মাথা, স্টিলের মত নার্ভ - মগনলালের অট্টহাসি শুনতে পেলো প্রদোষ।
"কি মিস্টার মিত্তর? শক লাগলো?.... ফেলুদা ফেলুদা! বাঁচাও!...... তুমি শুধু ঘুঘুই দেখেছো মগনলাল.... আঁশ ছাড়ানো হচ্ছে কোতোয়ালিতে.... উটের পাকস্থলী.... আনুবিস হাসছে....."
সবকিছু ঘেঁটে যাচ্ছে... কোত্থেকে আসছে আওয়াজগুলো? কে? কে কথা বলছে?
- "লালমোহনবাবু? শুনুন..... শুনতে পাচ্ছেন? ওই যে হাসছে.... কারা যেন হাসছে। তো-তোপসেকে..... মেরে ফেলল!"
- "প্রদোষ। প্রদোষ, শান্ত হও।"
হিমশীতল গলায় বললেন লালমোহনবাবু।
হিমশীতল গলায় বললেন লালমোহনবাবু।
- "শান্ত হব? কি বলছেন কি আপনি? আর এরা... এরা তো মগনলালের লোক। আপনি এদের সাথে কি করছেন? এরা মেরেছে তোপসেকে। কি করছেন আপনি এদের সাথে?" চিৎকার করে উঠলো প্রদোষ।
- "শান্ত হও প্রদোষ। এরা কেউ তপেশকে মারেনি। তুমি মেরেছ।"
- "ক্-কী যাতা বলছেন লালমোহনবাবু? আপনিও তাহলে মগনলালের সাথে মিলে....!!"
- "মগনলাল বলে কেউ নেই প্রদোষ। ইটস টাইম টু অ্যাক্সেপ্ট দ্য রিয়ালিটি।"
- "শান্ত হও প্রদোষ। এরা কেউ তপেশকে মারেনি। তুমি মেরেছ।"
- "ক্-কী যাতা বলছেন লালমোহনবাবু? আপনিও তাহলে মগনলালের সাথে মিলে....!!"
- "মগনলাল বলে কেউ নেই প্রদোষ। ইটস টাইম টু অ্যাক্সেপ্ট দ্য রিয়ালিটি।"
- "অত সহজে ফেলু মিত্তিরকে বোকা বানাতে তুমি পারবে না জটায়ু। তলে তলে মগনলালের সাথে ভিড়ে আমাকে.... হাহাহাহা! আমাকে.... নাহ্! তোমাদের হাতে আমি আসছি না। কিছুতেই না!"
- "কাচের টুকরোটা রেখে দাও প্রদোষ। উই আর ইয়ার টু হেল্প ইউ। প্রদোষ! কুইক! গ্র্যাব হিম!"
- "কাচের টুকরোটা রেখে দাও প্রদোষ। উই আর ইয়ার টু হেল্প ইউ। প্রদোষ! কুইক! গ্র্যাব হিম!"
ডান হাতে ধরা কাচের ফালিটা নিয়ে নিজের বাঁ হাতের কব্জিতে চালাতেই সাদা পোশাক পরা তিনজন লোক ঝাঁপিয়ে পড়ল প্রদোষের ওপর। মেঝেতে ফেলে চেপে ধরে ঘাড়ের পাশে ইঞ্জেকশনের ছুঁচটা গুঁজে দিতেই ছটফটানি থেমে এলো প্রদোষের। ঘুমের একটা চাদর নেমে আসতে থাকল চোখের ওপর। আবছা আবছা দেখতে পেল সামনে এসে দাঁড়িয়েছে মগনলাল। মুখে ক্রুর হাসি। বাঁ হাতের রিস্টটা তুলে দেখালো মগনলাল..... রক্ত ঝরছে.... ডান হাতে কাচের টুকরো.... অন্ধকার।
বিশাল একটা কাঠের টেবিল। দু'দিকে গদি আঁটা দুটো কাঠের চেয়ারে বসে আছেন দুই ভদ্রলোক। টেবিলে একটা কাচের গ্লাস - স্কচ, বরফ ভাসছে। আর একটা গ্লাস ধরা টাকমাথা ভদ্রলোকের হাতে। আবছা একটা আলো জ্বলছে।
"ব্যাপারটার সূত্রপাত কলকাতায়। তা প্রায় তিরিশ বছর তো হলই।"
হাতে ধরা গ্লাসে চুমুক দিয়ে শুরু করলেন টাকমাথা ভদ্রলোক।
হাতে ধরা গ্লাসে চুমুক দিয়ে শুরু করলেন টাকমাথা ভদ্রলোক।
"প্রদোষচন্দ্র মিত্র। ব্রিলিয়ান্ট স্টুডেন্ট ছিলো। কলকাতার একটা নি:সন্তান ফ্যামিলি ছেলেবেলায় অরফ্যানেজ থেকে অ্যাডপ্ট করেছিলো। নামটাও তাঁদেরই দেওয়া। ও অবশ্য কিছুই জানত না। ছেলেবেলা থেকেই প্রদোষকে শেখানো হয়েছিলো যে ওর বাবা-মা একটা এক্সিডেন্টে মারা যান আর ওঁনারা ওর কাকা-কাকিমা। পরবর্তীকালে তাঁদের একটা ছেলে হয় - তপেশরঞ্জন, নিকনেম তোপসে। তবে প্রদোষের প্রতি তাঁদের ভালোবাসা কোনো অংশে কমেনি। ভাইকেও প্রদোষ খুব ভালোবাসত। ভাইও ফেলুদা বলতে অজ্ঞান।"
আরেক ভদ্রলোক ঘড়ি দেখলেন, "ব্রিফলি বলুন। ফ্লাইট রেডি হয়ে এলো বলে।"
- "তখন প্রদোষের পঁচিশ-ছাব্বিশ বছর বয়স। আনফরচুনেটলি একদিন তপেশ খুন হয়। খুব সম্ভবত হি উইটনেসড সামথিং হুইচ হি শুডন'ট হ্যাভ। মোস্ট প্রবাবলি আ ড্রাগ ডিল। সেই সময়কার কুখ্যাত ড্রাগ মাফিয়া মগনলাল মেঘরাজের নাম জড়ায়। কিন্তু মগনলাল পলিটিকাল ইন্সফ্লুয়েন্স খাটিয়ে বেঁচে যায়। ঘটনাটা কিন্তু প্রদোষ কিছুতে ভুলতে পারে না। সাইকোলজিক্যাল ড্যামেজ হওয়া তখন থেকেই শুরু। মে বি জেনেটিক প্রবলেমও কিছু ছিলো। কিন্তু আমরা অনেক চেষ্টা করেও ওর অরিজিনাল পেরেন্টসদের হিস্টরি ট্র্যাক করতে পারিনি।
একদিন রাত্রে প্রদোষ মগনলালের কলকাতার বাড়িতে লুকিয়ে ঢোকে। মগনলাল ছিলো কলকাতার বাইরে। পুলিশ পরেরদিন সকালে প্রদোষকে মগনলালের বাড়িতে আবিষ্কার করে। সাথে মগনলালের দুই ছেলে আর স্ত্রী - ব্রুটালি মার্ডারড। তারপর থেকে অ্যাসাইলামে ঠিকানা হয় প্রদোষের। সেখানে থাকতে থাকতেই আর একটা পার্সোনালিটি ডেভেলপ করে প্রদোষ - নিজেকে মগনলাল মেঘরাজ ভাবতে শুরু করে। ভায়োলেন্ট নেচারটা তখনই ওর বেরিয়ে আসে। পরে কিন্তু আর কিছু মনে থাকে না - তখন আবার প্রদোষ। ওই অ্যাসাইলামেই দু'জন পেশেন্ট ওর হাতে খুন হয়, আর কয়েকজন ডক্টর আর ওয়ার্কারদেরও ভায়োলেন্টলি অ্যাসল্ট করে। একটা কনফারেন্সে কলকাতায় গিয়েছিলাম আমি। পঁচিশ বছর আগে। তখন ওর ফাইল দেখে ইন্টারেস্টেড হই। আমেরিকায় নিয়ে আসার আবেদন করি ফর রিসার্চ পার্পাস। মঞ্জুর হয়। হে ইজ হিয়ার এভার সিন্স।"
একদিন রাত্রে প্রদোষ মগনলালের কলকাতার বাড়িতে লুকিয়ে ঢোকে। মগনলাল ছিলো কলকাতার বাইরে। পুলিশ পরেরদিন সকালে প্রদোষকে মগনলালের বাড়িতে আবিষ্কার করে। সাথে মগনলালের দুই ছেলে আর স্ত্রী - ব্রুটালি মার্ডারড। তারপর থেকে অ্যাসাইলামে ঠিকানা হয় প্রদোষের। সেখানে থাকতে থাকতেই আর একটা পার্সোনালিটি ডেভেলপ করে প্রদোষ - নিজেকে মগনলাল মেঘরাজ ভাবতে শুরু করে। ভায়োলেন্ট নেচারটা তখনই ওর বেরিয়ে আসে। পরে কিন্তু আর কিছু মনে থাকে না - তখন আবার প্রদোষ। ওই অ্যাসাইলামেই দু'জন পেশেন্ট ওর হাতে খুন হয়, আর কয়েকজন ডক্টর আর ওয়ার্কারদেরও ভায়োলেন্টলি অ্যাসল্ট করে। একটা কনফারেন্সে কলকাতায় গিয়েছিলাম আমি। পঁচিশ বছর আগে। তখন ওর ফাইল দেখে ইন্টারেস্টেড হই। আমেরিকায় নিয়ে আসার আবেদন করি ফর রিসার্চ পার্পাস। মঞ্জুর হয়। হে ইজ হিয়ার এভার সিন্স।"
গ্লাসে চুমুক দেওয়ার জন্য থামলেন ভদ্রলোক।
"এখানেই ওর সাথে আর একটা কম বয়সি ইন্ডিয়ান ছেলের পরিচয়। একদম ওর ভাইয়ের বয়সী। হি স্টার্টেড কলিং হিম 'তোপসে'। ওর ধারণা হয় তোপসে ফিরে এসেছে।
আমাকে থেরাপিস্ট হিসেবে অ্যাক্সেপ্ট করতে সময় নেয় প্রদোষ। মাঝেমধ্যেই ভায়োলেন্ট হয়ে উঠত। কর্মচারীদের সাদা উর্দি দেখে বলত মগনলালের বেয়ারা। সো আই স্টেজড অ্যান ইন্সিডেন্ট। একটা ট্রেনের কোচ সাজানো হয়। সেখানে আই মেট দেম অ্যাজ আ কো-প্যাসেঞ্জার টু বি হিজ ফ্রেন্ড। টু গেট ক্লোজ টু হিম।
মজার ব্যাপার আমাকে হঠাৎ লালমোহনবাবু বলে ডাকতে শুরু করে প্রদোষ। আই ডোন্ট নো হোয়াই। ট্রিটমেন্ট চলতে থাকে। যখনই ভাবতাম রিকভার করছে ঠিক তখনই মগনলাল এসে হাজির হত। আবার কিছু না কিছু ইন্সিডেন্ট। আর প্রদোষ তোপসে আর আমাকে সাথে নিয়ে সেগুলোর তদন্তে নেমে পড়ত। পুরো ব্যাপারটাই আমি অবশ্য সুপারভাইজ করতাম। বছর ছয়েক হল মগনলাল আর প্রদোষের বাইরে আসেনি। আর প্রদোষও অ্যাক্সেপ্ট করে নিয়েছিলো যে ওর মাল্টিপল পার্সোনালিটি ডিসর্ডার আছে। দেখে তো মনে হত সম্পূর্ণ সুস্থ। কিন্তু আমি জানতাম ওর ভেতরে কিন্তু মগনলাল এখনও বেঁচে। শুনলেন না। সরকার থেকে বোর্ড বসানো হল। এরমভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ মানুষকে নাকি আটকে রাখা উচিত না। ভালো কথা। অ্যান্ড আই হ্যাভ প্রুভড দ্যাট হি ইজ নট এলিজিবল টু গেট আউট অফ হিয়ার। যে ছেলেটাকে এত প্রেফার করত তারই কি হাল করল দেখুন।"
"এখানেই ওর সাথে আর একটা কম বয়সি ইন্ডিয়ান ছেলের পরিচয়। একদম ওর ভাইয়ের বয়সী। হি স্টার্টেড কলিং হিম 'তোপসে'। ওর ধারণা হয় তোপসে ফিরে এসেছে।
আমাকে থেরাপিস্ট হিসেবে অ্যাক্সেপ্ট করতে সময় নেয় প্রদোষ। মাঝেমধ্যেই ভায়োলেন্ট হয়ে উঠত। কর্মচারীদের সাদা উর্দি দেখে বলত মগনলালের বেয়ারা। সো আই স্টেজড অ্যান ইন্সিডেন্ট। একটা ট্রেনের কোচ সাজানো হয়। সেখানে আই মেট দেম অ্যাজ আ কো-প্যাসেঞ্জার টু বি হিজ ফ্রেন্ড। টু গেট ক্লোজ টু হিম।
মজার ব্যাপার আমাকে হঠাৎ লালমোহনবাবু বলে ডাকতে শুরু করে প্রদোষ। আই ডোন্ট নো হোয়াই। ট্রিটমেন্ট চলতে থাকে। যখনই ভাবতাম রিকভার করছে ঠিক তখনই মগনলাল এসে হাজির হত। আবার কিছু না কিছু ইন্সিডেন্ট। আর প্রদোষ তোপসে আর আমাকে সাথে নিয়ে সেগুলোর তদন্তে নেমে পড়ত। পুরো ব্যাপারটাই আমি অবশ্য সুপারভাইজ করতাম। বছর ছয়েক হল মগনলাল আর প্রদোষের বাইরে আসেনি। আর প্রদোষও অ্যাক্সেপ্ট করে নিয়েছিলো যে ওর মাল্টিপল পার্সোনালিটি ডিসর্ডার আছে। দেখে তো মনে হত সম্পূর্ণ সুস্থ। কিন্তু আমি জানতাম ওর ভেতরে কিন্তু মগনলাল এখনও বেঁচে। শুনলেন না। সরকার থেকে বোর্ড বসানো হল। এরমভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ মানুষকে নাকি আটকে রাখা উচিত না। ভালো কথা। অ্যান্ড আই হ্যাভ প্রুভড দ্যাট হি ইজ নট এলিজিবল টু গেট আউট অফ হিয়ার। যে ছেলেটাকে এত প্রেফার করত তারই কি হাল করল দেখুন।"
মুখ খুললেন অন্য ভদ্রলোক, " আর আমি যদি বলি আপনি গতকাল রাত্রে ওই 'তোপসে'কে নিয়ে প্রদোষের সেলে গিয়েছিলেন আবার লালমোহনের পার্সোনা নিয়ে? সরবতে LSD মেশানো টা? আপনি আজ পর্যন্ত কোনো পেশেন্টকে এখান থেকে যেতে দিয়েছেন ডক্টর কাওলি?"
ভদ্রলোকের চোখে চোখ রেখে ঠান্ডা গলায় হিসহিসিয়ে ডক্টর কাওলি বললেন, "যে অভিযোগ তুমি প্রমাণ করতে পারবে না সেটা নিয়ে প্রশ্ন তোলা বোকামি টেডি। মনে রাখবে তুমিও কিন্তু এখনও সুস্থ নও। ইট ওয়াজ আ ওয়ার্নিং ফর ইউ অ্যাজ ওয়েল। প্রদোষের সাথে মিলে এখান থেকে পালানোর অপচেষ্টা এবার তাহলে বন্ধ হোক। মনে রেখো নোবডি লিভস দ্য শাটার আইল্যান্ড।"
(এটি একটি ফ্যানফিকশন। চরিত্রগুলি শ্রী সত্যজিৎ রায় সৃষ্ট। আমার কোনোরকম ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য নেই।)
Follow Nirban Ray and Onkar Nath in Facebook.

No comments:
Post a Comment